মার্ফি’স ল: কেন সম্ভাব্য ভুলগুলো বাস্তবে ঘটেই যায়? — BanglaTrick
Education

মার্ফি’স ল: কেন সম্ভাব্য ভুলগুলো বাস্তবে ঘটেই যায়?

2 weeks ago 2 18 0
taskin03

taskin03

January 21, 2026 1 min read
2 18 0

মানুষের জীবনে ভুল, ব্যর্থতা এবং অপ্রত্যাশিত সমস্যার উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। তবে একটি বিষয় প্রায় সবার অভিজ্ঞতায় মিলে যায়। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সমস্যাগুলো যেন বেশি করেই ঘটে। এই পর্যবেক্ষণ থেকেই জন্ম নিয়েছে একটি বিখ্যাত নীতি, যার নাম মার্ফি’স ল।

মার্ফি’স ল কোনো কুসংস্কার বা হতাশাবাদী দর্শন নয়। এটি মূলত ঝুঁকি, সম্ভাবনা এবং মানবিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে তৈরি একটি বাস্তব পর্যবেক্ষণ। আধুনিক বিজ্ঞান, সাইকোলজি এবং ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সে এই ধারণার গুরুত্ব অনেক বেশি।

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানব মার্ফি’স ল আসলে কী, কেন এটি কাজ করে বলে মনে হয়, এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী এবং বাস্তব জীবনে আমরা কীভাবে এটি থেকে উপকৃত হতে পারি।

মার্ফি’স ল কী?

মার্ফি’স ল-এর সবচেয়ে প্রচলিত সংজ্ঞা হলো,

“যে কাজের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেই কাজ একসময় ভুল হবেই।”

এই কথাটি শুনতে অতিরঞ্জিত মনে হলেও, এটি সম্ভাবনার ভাষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা তুলে ধরে। কোনো সিস্টেমে যদি একাধিক অংশ থাকে এবং প্রতিটি অংশে সামান্য হলেও ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে পুরো সিস্টেমে ব্যর্থতার সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

মার্ফি’স ল আমাদের বলে না যে, সবকিছু নিশ্চিতভাবে খারাপ হবে। বরং এটি মনে করিয়ে দেয়, সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোকে অবহেলা করলে সমস্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

কেন মার্ফি’স ল বাস্তব মনে হয়?

অনেকেই মনে করেন, মার্ফি’স ল আসলে মানুষের মনে তৈরি একটি ভ্রান্ত ধারণা। আংশিকভাবে এটি সত্য, তবে পুরোটা নয়।

এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করে।

প্রথমত, সম্ভাবনার নিয়ম। যদি কোনো কাজ প্রতিদিন করা হয়, তাহলে একদিন না একদিন ভুল হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষ সাধারণত সেই ভুলের দিনটিকেই বেশি মনে রাখে।

দ্বিতীয়ত, সিলেকটিভ মেমোরি। ভালোভাবে কাজ শেষ হলে আমরা সেটাকে স্বাভাবিক ধরে নিই। কিন্তু কাজ বিগড়ে গেলে সেটি আমাদের মনে গভীরভাবে ছাপ ফেলে।

তৃতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের চাপ। পরীক্ষার দিন, ইন্টারভিউয়ের দিন বা ডেডলাইনের সময় মানসিক চাপ বেশি থাকে। এই চাপ আমাদের ছোট ভুলগুলোকেও বড় করে তুলতে পারে।

মার্ফি’স ল এবং সিস্টেম ডিজাইন

ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তির জগতে মার্ফি’স ল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। যে কোনো বড় সিস্টেম ডিজাইনের সময় ধরে নেওয়া হয়, মানুষ ভুল করবে। যন্ত্র নষ্ট হতে পারে। কমিউনিকেশনে সমস্যা হতে পারে।

এই কারণেই বিমানে একাধিক ব্যাকআপ সিস্টেম থাকে। সফটওয়্যারে এরর হ্যান্ডলিং যুক্ত করা হয়। মেডিক্যাল যন্ত্রপাতিতে অ্যালার্ম এবং সতর্কতা ব্যবস্থা থাকে।

মার্ফি’স ল এবং মানব আচরণ

মার্ফি’স ল মানুষের আচরণের সাথেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই শর্টকাট নিতে চায়। নিয়ম এড়িয়ে যেতে চায়। মনে করে, এবার আর ভুল হবে না।

কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যত বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়, তত বেশি ছোট ছোট সতর্কতাগুলো উপেক্ষা করে আর সেখানেই ভুলের সুযোগ তৈরি হয়।

এই কারণেই চেকলিস্ট একটি শক্তিশালী টুল। পাইলট, সার্জন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপকরা নিয়মিত চেকলিস্ট ব্যবহার করেন। কারণ তারা জানেন, মানুষের স্মৃতি নিখুঁত নয়।

বাস্তব জীবনে মার্ফি’স ল থেকে কী শেখা যায়?

 

মার্ফি’স ল আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

একটি হলো ব্যাকআপ রাখা। ডিজিটাল ফাইল হোক বা পরীক্ষার প্রস্তুতি, একটি বিকল্প সবসময় নিরাপত্তা দেয়।

আরেকটি হলো সময়ের মার্জিন রাখা।

সব কাজ শেষ মুহূর্তের জন্য রেখে দিলে ছোট সমস্যাও বড় হয়ে দাঁড়ায়।

আরেকটি হলো চেক করা।

ধরে নেওয়ার বদলে যাচাই করা অনেক বেশি কার্যকর।

এই অভ্যাসগুলো জীবনে ছোট মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য তৈরি করে।

 

মার্ফি’স ল আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী সম্ভাবনার ওপর চলে, নিশ্চয়তার ওপর নয়।

ভুল হবে। সমস্যাও আসবে।

কিন্তু যে মানুষ সম্ভাব্য ভুলের কথা ভেবে

আগেই প্রস্তুতি নেয়, সে প্রতিবার এক ধাপ এগিয়ে থাকে।

 

2 thoughts on “মার্ফি’স ল: কেন সম্ভাব্য ভুলগুলো বাস্তবে ঘটেই যায়?
  1. Nomayer Rahim Oni Contributor Reply

    সুন্দর পোস্ট❤️

    1. taskin03 Post CreatorContributor Reply

      ধন্যবাদ ❤️

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *